প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝর্ণাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে খৈয়াছরা ঝর্ণায়। তাই ‘খৈয়াছড়া’ কে বলা হয় বাংলাদেশের ‘ঝর্ণা রাণী
গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকা বাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে শরীরটা একটু হলেও ভিজিয়ে নেয়া যায় নিঃসন্দেহে। মিরসরাইয়ের এই খৈয়াছড়ায় নয় স্তরের ঝর্ণা দেখতে দেশি বিদেশি পর্যটকের ভিড় পড়েছে।

আমাদের ট্র্যাকিংঃ আমরা যখন বাস থেকে নামি তখন ভোরের আলো ফোটেনি এবং অনেক বৃষ্টি হচ্ছিলো, আমি ফজর এর নামায আদায় করার পরেই আমরা হেটে রওনা দিলাম ঝর্নার রানী কে দেখার জন্য। যেহেতু বৃষ্টি হচ্ছিলো ছাতাও নেয়া হয়নি তাই পলিথিন মাথায় দিয়েই সামনের দিকে আগাতে শুরু করলাম। সবাই ট্র্যাকিং উপযোগী জুতা পরে নিয়েছিলাম, তার পরেও কেনো জানি হঠাত করেই পিচ্চিল খেলাম, জা দেখে সবাই মজা পেলো। আকা বাকা পাহাড়ি ঝিরি পথ ধরে আগাতে থাকলাম পথেই দেখা পেলাম পাহাড়ি আদিবাসিদের দেখা, তারা খুব পরিশ্রমী এবং খুব ভোরে উঠে, যাতে করে তারা সারাদিন অনেক কাজ করতে পারেন। অনেক ছোট ছোট বাচ্চারাও আমাদের আগে চলে জাচ্ছে পাহাড়ের গা বেঁয়ে। কারন তাদের প্রতিদিনের কাজ হচ্ছে মাইলের পর মাইল পাহাড় বেঁয়ে দূর থেকে কাঠ, গাছের গুঁড়ি, পানি, ফলমূল বা মাছ সংগ্রহ করে নিজেদের জন্য এবং কিছু বিক্রি করে  জীবিকা নির্বাহ করা। বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পার করে গুড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এর মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলেছি আমরা, এখনো ঝর্নার সামনেই যেতে পারি নাই, শুধু ঝর্না থেকে বয়ে আসা প্রথম ফ্লো টা পেলাম, আমাদের শাকিল ভাই তার ব্যাগ রেখেই পা ভিজাতে নেমে গেলেন, আহ কি প্রশান্তি, আমিও তখন মোবাইল দিয়ে চটজলদি তুলে ফেললাম কতগুলো ছবি। ঝিরি পথের শুরুতেই বাশ বিক্রি করতে দেখা যায়।কারন পাহাড়ি আকাবাকা পিচ্ছিল পথ যদি পরে যায়! আর আমরা কোন বাশ নেই নাই কারন, আমরা ভোর বেলা গিয়েছি তখন কেউ যায় নাই, আর আস্তে আস্তে লোক সমাগম হলে ঝর্নার পানিতে গোসল করে ফিরে আসতে গেলে পাহাড়ি ঢালু পথ ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, এর জন্য সাপোর্ট এর জন্য বাশ লাগে! দাম মাত্র ২০ টাকা, আর ঝর্নার থেকে ফেরত এসে যদি বাশ টা ফেরত দেয়া হয় অক্ষত অবস্থায় তাহলে ১০ বা ০৫ টাকা ফেরত দিয়ে থাকে বাশ দোকানের মালিক ওয়াও!!! জাই হোক সকল ঝিরিপথ উঁচুনিচু পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে যখন আমরা ঝর্নার একেবারেই কাছাকাছি,ঠিক তখনি সেই রকমের গর্জন শোনা জাচ্ছে।দূর থেকেই গর্জন শুনে বোঝা যাচ্ছিলো যে মানুষ কেন আসে এই অপুর্ব ঝর্নাটা দেখার জন্য। তা ৫ মিনিটের মত লাগলো সেই মূল ঝর্নার ১ম ধাপ এর কাছে যেতে। যাওয়ার পরেই আমরা চার জন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম কিছুক্ষন এর সৌন্দর্য দেখছিলাম, প্রায় ৬০ ফুট উচু খাঁড়া পাহাড়ি ঢল আছড়ে পরছে সমতল এলাকায় আর সাথে অনেক গর্জন। এর জন্যই একে ঝর্নার রানী বলা হয়, নামটা সার্থক। দেখেই সবাই নামার ঝর্নায় প্রস্তুতি গ্রহন করলো আমি তাদের এখন ঝর্নায় নামতে না করলাম কারন ঝর্নার মূল লেভেল ৯ টা এই ১ম লেভেলে ভিজে গেলেই বাকি পথ ভেজা কাপড় নিয়ে উঠা আর ট্র্যাকিং করা খুব কষ্ট সাধ্য হয়ে পরবে। তাই ঐ ১ম লেভেল থেকে শুধু ছবি তুলেই ২য় লেভেলের উদ্যেশ্যে রওনা দিলাম।


Comments

Popular posts from this blog